শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
রাবি প্রতিনিধি:: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হাতুড়িপেটায় আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র তরিকুলের মেলেনি মেডিকেলে বসে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি। গত সোমবার মেডিকেলের সিক বেডে বসে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন করেন তিনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমতি না থাকায় বিভাগীয় সভাপতির কার্যালয়ে বিছানায় শুয়ে-বসে পরীক্ষা দিতে হলো তাকে।
আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তরিকুলকে অসুস্থ শরীর নিয়ে বিভাগের সভাপতির কার্যালয়ে শুয়ে-বসে মাস্টর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা দেন তরিকুল।
তরিকুলের সহপাঠীরা জানান, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে গিয়ে তরিকুল তার শারীরিক অবস্থার পরীক্ষা করায়। এ সময় তরিকুল মেডিকেলের সিক বেডে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। তরিকুলের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মেডিকেল থেকে তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অনুমতি চাইলে উপাচার্য আবেদনটি গ্রহণ করেননি।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি না মেলায় বিভাগে এসেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে তরিকুলকে। তবে তরিকুলের জন্য বিভাগীয় সভাপতির কার্যালয়ে বিছানার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তরিকুল শুয়ে-বসে পরীক্ষা দেন তিনি।
এ বিষয়ে তরিকুল বলেন, ‘আমি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নই। আমাকে স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকতে পারি না। এ অবস্থায় বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দেওয়ার মতো অবস্থা আমার নাই। তাই মেডিকেলে বসে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম। আজকে পরীক্ষা দিতে আমার খুব কষ্ট হয়েছে এবং এভাবে পরীক্ষা দেওয়া আমার জন্য খুবই কষ্টকর।’
এ বিষয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মু. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তরিকুলের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। সে মেডিকেলে পরীক্ষা দিতে চেয়েছিল। এ জন্য আমিও সুপারিশ করেছিলাম। অনুমতি না মেলায় আমরা বিভাগেই তার জন্য পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, ছোঁয়াচে রোগের ক্ষেত্রে মেডিকেলে বসে পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়। তরিকুল ছোঁয়াচে রোগী না হওয়ায় অনুমতি পায়নি।’
এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
গত ২ জুলাই পুলিশের উপস্থিতিতে কোটা আন্দোলনকারীদের পতাকা মিছিলে হামলা চালায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের হাতুড়িপেটায় তরিকুলের পা ভেঙে যায়। কিন্তু হামলার প্রায় তিন মাস পর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি তরিকুল।